Tuesday, December 15, 2015

আবিষ্কারের ইতিকথাঃ ভিটামিন



আমরা অনেকেই জানি না, কিভাবে ভিটামিন আবিষ্কৃত হয়? ১৯০৫ সালে প্রথম ইংরেজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফ্লেচার গবেষণায় সিদ্ধান্ত উপনীত হলেন, খাদ্যের অভাবে বিভিন্ন রোগ সংঘটিত হয়। তিনি একসময় গবেষণা করছিলেন, কিভাবে বেরিবেরি রোগ সংঘটিত হয়? তিনি গবেষণার সময় আবিষ্কার করলেন, পাতলা খোসা সহ চাল বেরিবেরি রোগ প্রতিরোধ করছে, অন্যদিকে খোসা ছাড়ানো চকচকে চাল বেরিবেরি রোগ প্রতিরোধ করছে না। সেকারণেই, উইলিয়াম ফ্লেচার বিশ্বাস করলেন চালের খোসাতে পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান রয়েছে।

১৯০৬ সালে ইংরেজ বায়োকেমিস্ট স্যার ফ্রেডরিক হপকিংসও আবিষ্কার করলেন যে, স্বাস্থ্যের জন্য কিছু খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এদিকে ১৯১২ সালে পলিশ বিজ্ঞানী ক্যাশমির ফাঙ্ক বিশেষ পুষ্টি উপাদানের নাম দিলেন ‘ভিটামিন’। ‘ভিটা’ শব্দের অর্থ জীবন। ‘অ্যামাইন’ শব্দের অর্থ যৌগিক উপাদান যা খুজে পাওয়া গেল থায়ামিনে, যা তিনি চাল হতে পাতলা খোসা আলাদা করেছিলেন। পরবর্তীতে হপকিংস এবং ফাঙ্ক একত্রে প্রকাশ করলেন ভিটামিনের ঘাটতির ফলে রোগ সৃষ্টি হয়।


পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞানীগণ খাদ্যের ধরন অনুযায়ী তা আলাদা করলেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন শনাক্ত করতে সক্ষম হলেন। আর এসব ভিটামিন সমূহ হচ্ছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই প্রভৃতি।

আবিষ্কারের ইতিকথাঃ পেনিসিলিন



পেনিসিলিন এক প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক। এটি পেনিসিলিয়াম (Penicillium) নামক ছত্রাক তৈরি করে থাকে। পেনিসিলিন ব্যাকটেরিয়া প্রতিষেধক হিসেবে সমধিক পরিচিত। এটি বি-লেকটাস অ্যান্টিবায়োটিক গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত যা ব্যাকটেরিয়াজনিত জীবানূ ধ্বংস করে থাকে। ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের পেপটিডোগ্লাইকেন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয় এই পেনিসিলিন।  

প্রকৃতপক্ষে ১৮৯৬ একজন ফরাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র আর্নেষ্ট ডুচেসনে  পেনিসিলিন প্রত্যক্ষ করেন। ১৯২৮ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং নতুনভাবে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন। তিনি ছিলেন মূলত একজন ব্যাকটেরিয়া বিশারদ। তিনি লন্ডনে ইমপেরিয়াল কলেজের হাসপাতালের ল্যাবটেরিতে ফ্লেমিং ব্যাটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু তিনি কাঙ্খিত ফল না পেয়ে একপ্রকার হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন। এসময় তিনি কিছু ব্যাকটেরিয়ার নমুনা গবেষণাগারের এক কোণে একটি পেট্রি ডিশে রেখে দেন। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন, ব্যাকটরিয়ায় এক ধরনের ফাংগাস। পরবর্তীতে তিনি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফ্লোরি চেইন থেকে পেনিসিলিন তৈরি করতে সক্ষম হন। পেনিসিলিন পেনিসিলিয়াম মোল্ড হতে অ্যান্টিবায়োটিক এজেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত অনেক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করতে সক্ষম।

Monday, December 14, 2015

আবিষ্কারের ইতিকথাঃ ডিনামাইট



ডিনামাইট গ্রিক শব্দ ‘ডাইনামিস’ যার অর্থ দাড়ায় শক্তি। মূলত ডিনামাইট এক ধরনের রাসায়নিক বিস্ফোরক। এটি প্রধানত নাইট্রোগ্লিসারিন এবং টিএনটি দিয়ে তৈরি একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রাসায়নিক বিস্ফোরক।

বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ১৮৬৭ সালে ডিনামাইট আবিষ্কার করেন। সেসময় তিনি ডিনামাইট বিক্রি শুরু করেন যা নোবেল বাস্টিং পাউডার হিসেবে পরিচিত ছিল। ডিনামাইট ক্রমশঃ একটি নিরাপদ গানপাউডার এবং নাইটোগ্লি­­সারিন হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। আলফ্রেড নোবেল এর  পেটেন্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হন। লাইসেন্সবিহীনদের এর ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। ডিনামাইট ১৯৪০ সালে বিশ্বে বৃহৎ আকারে উৎপাদিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়।

ডিনামাইটকে তার দ্বারা দূর থেকে বৈদ্যুতিক সিগনালের সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই বিস্ফোরক অনবরত জ্বলতে থাকে। বৃহৎ পরিমানে উত্তপ্ত গ্যাস প্রক্রিয়াধীন হয়। ডিনামাইট ব্লাক পাউডার অপেক্ষা প্রথম নিরাপদভাবে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একটি ডিনামাইটের ক্ষমতা প্রায় দুই মিলিয়ন জুয়েলের উপর। পাহাড় ভাঙ্গা, টানেল তৈরি খনিতে ডিনামাইট ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এর কারণ, সহজে কম খরচে ডিনামাইট দিয়ে এসব কাজ করানো যায় যুদ্ধের কাজে সেতু, শত্রুপক্ষের ভবন, রেললাইন ইত্যাদি উড়িয়ে দিতে ডিনামাইট ব্যবহৃত হয়ে থাকে

বলা যায়, এই ডিনামাইট আলফ্রেড নোবেলের জীবনে এক বিরাট সৌভাগ্য এনে দেয়। তিনি প্রচুর অর্থ-বৈভবের অধিকারী হন। বিজ্ঞানী নোবেল অনুধাবন করতে সক্ষম হন যে, এই ডিনামাইট শান্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। নিঃসন্দেহে ভাল কাজেও বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা যায়। তিনি তার উপার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ফান্ড তৈরি করেন যা বিশ্বে নোবেল পুরষ্কার হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত।

-আবিষ্কারের ইতিকথা বই থেকে নেওয়া